সম্পাদকীয় দল। পাঠকদের কাছ থেকে যা শুনি, তা থেকেই লিখি।
এটি তিন পর্বের ধারাবাহিকের শেষ পর্ব। প্রথম পর্বে পাকিস্তান আমলের বৈষম্য, দ্বিতীয় পর্বে একাত্তর আর বিজয়ের পরের রাজনীতি। স্বাধীনতার পর প্রথম দুই দশক বাইরের দুনিয়া বাংলাদেশকে দেখত দুর্যোগ, দুর্ভিক্ষ আর সাহায্যের দেশ হিসেবে। এবার দেখা যাক, কীভাবে সেই ছবি বদলাল, আর আজ কোন প্রশ্ন সামনে। প্রতিটি সংখ্যার সূত্র লেখার শেষে। প্রথম পর্ব: https://jonogonerkotha.com/bn/posts/তলাবিহীন-ঝুড়ির-গল্প-পর্ব-১-এক-দেশ দ্বিতীয় পর্ব: https://jonogonerkotha.com/bn/posts/তলাবিহীন-ঝুড়ির-গল্প-পর্ব-২-একাত্তর-মেধা ১৯৭৮: চারটি নীরব বিপ্লব…
এটি তিন পর্বের ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে দেখেছি দেশভাগ থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত ২৪ বছরের বৈষম্য। এবার সেই রাত, যখন আলোচনা থেমে গেল আর শুরু হলো গণহত্যা। প্রতিটি সংখ্যার সূত্র লেখার শেষে, বন্ধনীর নম্বর ধরে। প্রথম পর্ব: https://jonogonerkotha.com/bn/posts/তলাবিহীন-ঝুড়ির-গল্প-পর্ব-১-এক-দেশ ১৯৭১: নয় মাস ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টা: শুরু হয় "অপারেশন সার্চলাইট"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস আর পুরান ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ; বাংলাপিডিয়ার সংকলিত হিসাবে শুধু সেই রাতেই ঢাকায় নিহ…
১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রশাসনের সংকট-বৈঠক চলছে। পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধ তখন শেষ পর্যায়ে, নতুন একটি দেশের জন্ম প্রায় নিশ্চিত। আলোচনার এক পর্যায়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ইউ. অ্যালেক্সিস জনসন বললেন, দেশটি হবে একটি "আন্তর্জাতিক বাস্কেট কেস"। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার যোগ করলেন, তবে সেটা "আমাদের বাস্কেট কেস" হবে, এমন নয় [১]। কথাটা প্রায়ই কিসিঞ্জারের নামে চলে, কিন্তু মার্কিন সরকারের প্রকাশিত বৈঠকের নথি বলছে, প্রথম বলেছিলেন জনসন। বাংলায় তা পরিচিত হলো "তলাবিহীন ঝুড়ি" নামে, আর পরের কয়েক…
সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জের যেকোনো শ্রমিক-পাড়ায় এখন একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শোনা যায়: "বেতন কবে দেবে?" কেউ দুই মাসের মজুরি পাননি, কারও ঈদের বোনাস আটকে আছে, কেউ এক সকালে গিয়ে দেখেছেন গেটে তালা আর একটা নোটিশ। যে খাত দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা, সেই খাতের শ্রমিকেরাই এখন সবচেয়ে অনিশ্চয়তায়। আমরা গত কয়েক মাসের প্রতিবেদন, শ্রমিক সংগঠনের দাবি আর সরকারি পদক্ষেপ মিলিয়ে দেখেছি। এই লেখা সেই হিসাব, আর শেষে আমাদের প্রস্তাব। সংখ্যায় সংকট জুলাইয়ে প্রকাশিত "থ্রেডস আন্ডার প্রেশার" নামের এক প্রতিবেদনে জাস্টিস মেকারস বাংলাদেশ ই…
সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই এ বছর ডেঙ্গুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৩৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫,৭৩০ জন [১]। এর মধ্যে ১৩৬টি মৃত্যু শুধু সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনে, যেখানে জানুয়ারি থেকে আগস্টের আট মাসে মৃত্যু ছিল ৯৭ (আমাদের হিসাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে) [১, ৩]। ২৭ সেপ্টেম্বর এক দিনে ২,১৫৮ জন ভর্তি হয়েছেন, এ বছরের সর্বোচ্চ [২, ৪]। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক তথ্য, আইইডিসিআর ও সিটি করপোরেশনের জরিপ, কীটতত্ত্ববিদদের বিশ্লেষণ আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নি…
সেপ্টেম্বরের ১৯ তারিখে গেজেট হলো নবম জাতীয় বেতনকাঠামো, যাকে সবাই বলছেন নতুন পে স্কেল। সরকারি চাকরির সবচেয়ে নিচের ধাপে মূল বেতন ৮,২৫০ থেকে বেড়ে হচ্ছে ২০,০০০ টাকা, সবচেয়ে ওপরের ধাপে ৭৮,০০০ থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা [১]। এগারো বছর পর এই সমন্বয়; এর মধ্যে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে, তাই সরকারি কর্মচারীদের দাবিটা অন্যায্য নয়। কিন্তু একই বাজারে বাজার করেন পোশাকশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী, রিকশাচালক, বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, কৃষিশ্রমিক; যাঁদের বেতন কোনো গেজেটে বাড়ে না। আমরা গেজেটের খবর, বাজেট, পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি ও মূল্যস্ফীতির হিসাব,…
বাজারের থলে হাতে যিনিই বের হন, তিনি জানেন গত চার বছরে সংসারের হিসাব আর মেলে না। খবরে আসে মূল্যস্ফীতির হার কমছে, কিন্তু দোকানে দাম নামে না; কমে শুধু বাড়ার গতি। এর মধ্যে মানুষের মজুরি দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে। আমরা পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাসিক হিসাব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন, প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়, সিপিডির মাঠ-থেকে-দোকান গবেষণা আর বাজারের খবর মিলিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি: দাম কেন বাড়ে, কেন নামে না, আর সরকারের এত উদ্যোগ কেন কম কাজে লাগে। এই লেখা সেই অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপ, আর শেষে আমাদের প্র…
ঢাকার যেকোনো মোড়ে এক মিনিট দাঁড়ালে এখন একটা দৃশ্য অবধারিত: নীল-সবুজ ছাউনির ব্যাটারি রিকশা, সামনে-পেছনে দুই সারি যাত্রী, একটানা হর্ন, আর উল্টো পথে হঠাৎ ঘুরে যাওয়া। গাড়িটা সস্তা, দ্রুত আর সব গলিতে ঢোকে; তাই মানুষ এটাতেই ওঠে। আবার এই গাড়িটাই এখন শহরের গতি, বিদ্যুৎ আর রাস্তার নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে বড় চাপ। আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারি বক্তব্য, আদালতের আদেশ, বুয়েটের গবেষণা আর মাঠের জরিপ মিলিয়ে দেখেছি। এই লেখাটা সেই অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপ, আর শেষে আমাদের প্রস্তাব। ১. এক দশকে ২১ থেকে ৫ কিলোমিটার ব্যাটারি রিকশা আসার আগেই ঢাকা থেমে…
রবিবার রাতে দাম বদলেছে। সোমবার ভোর থেকে পাম্পে ডিজেল আর একশ পনেরো নয়—একশ পঁয়ত্রিশ টাকা। পেট্রল একশ ষাট। অকটেন একশ পঁয়ষট্টি। কেরোসিন একশ পঞ্চান্ন। প্রতি লিটারে বিশ টাকা। কাগজে এক লাইন, পকেটে এক মাসের হিসাব। যে মানুষ মোটরসাইকেলে অফিস যায়, তার ট্যাংক আগে যে টাকায় ভরত, আজ সেই টাকায় কয়েক দিনের বাজার কমে যায়। যে ভ্যান, লরি আর নৌকা ডিজেলে চলে, তার ভাড়া আজকেই বাড়বে না। বাড়বে কাল—চালের বস্তায়, সবজির দরে, স্কুলভ্যানের ভাড়ায়। বিশ টাকা পাম্পে থেমে থাকে না। সে গড়িয়ে যায় সারা শহরে, সারা গ্রামে। জানুয়ারিতে ডিজেল ছিল একশ দুই টাকা।…
ক্লাস, চাকরির আবেদন, ব্যাংকের কাজ, এমনকি সরকারি সেবা—সবই এখন অনলাইনে। কিন্তু এক জিবি ডেটার দাম আর তার গতি দেখলে মনে হয় ইন্টারনেট এখনও শহরের কিছু মানুষের জিনিস। গ্রামে নেটওয়ার্ক পেতে ছাদে উঠতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং করে যে তরুণেরা বিদেশি মুদ্রা আনছেন, তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া। আর ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা গায়েব হওয়াটা কোন যুক্তিতে ঠিক, তা কেউ বোঝায় না। আমাদের প্রস্তাব: ইন্টারনেটকে মৌলিক সেবা হিসেবে দেখা হোক, ডেটার দাম ও গতির মান প্রকাশ্যে তুলনা করার ব্যবস্থা থাকুক, সরকারি স্কুল-কলেজে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই আসুক…
একটা দেশ তখনই ঠিক হয়, যখন মানুষ ভুল দেখলে ভুল বলতে পারে। কিন্তু আমরা দেখেছি, ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে মানুষ মামলার মুখে পড়েছে, সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, আর সাধারণ মানুষ কথা বলার আগে দুইবার ভাবতে শিখেছে। এর উল্টো দিকও আছে। গুজব আর মিথ্যা খবর কয়েক ঘণ্টায় লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়, আর তার দাম দেয় নিরপরাধ মানুষ। স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়। আমরা চাই মতপ্রকাশের অপরাধ আর ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ আইনে স্পষ্টভাবে আলাদা থাকুক, সমালোচনার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা বন্ধ হোক, ইন্টারনেট বন্ধ করা যেন শেষ উপায়ও না হয়, আর তথ্য যাচাই…
ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটা পরিবারের আয়ের অর্ধেকের বেশি চলে যায় বাসা ভাড়ায়। জানুয়ারি এলেই বাড়িওয়ালা নোটিশ দেন, আর ভাড়াটিয়ার হাতে থাকে দুটো পথ: মেনে নেওয়া অথবা মালপত্র নিয়ে আরও দূরে সরে যাওয়া। ভাড়া নিয়ন্ত্রণের আইন আছে, কিন্তু সেটা কেউ মানে না, আর মানানোর কেউ নেই। অগ্রিম, চুক্তিপত্র, রসিদ—কোনোটাই নিয়মে চলে না। যারা বস্তিতে থাকেন তাদের অবস্থা আরও অনিশ্চিত; উচ্ছেদ হয় নোটিশ ছাড়াই। আমাদের চাওয়া: প্রতিটি ভাড়ার লিখিত চুক্তি ও রসিদ বাধ্যতামূলক হোক, বছরে ভাড়া বাড়ানোর একটা যৌক্তিক সীমা থাকুক, সিটি করপোরেশনে ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ডেস্ক থাকুক, আর নিম্ন আয়ের মানু…