লোডশেডিং, গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানির দাম।
২টি মতামত
রবিবার রাতে দাম বদলেছে। সোমবার ভোর থেকে পাম্পে ডিজেল আর একশ পনেরো নয়—একশ পঁয়ত্রিশ টাকা। পেট্রল একশ ষাট। অকটেন একশ পঁয়ষট্টি। কেরোসিন একশ পঞ্চান্ন। প্রতি লিটারে বিশ টাকা। কাগজে এক লাইন, পকেটে এক মাসের হিসাব। যে মানুষ মোটরসাইকেলে অফিস যায়, তার ট্যাংক আগে যে টাকায় ভরত, আজ সেই টাকায় কয়েক দিনের বাজার কমে যায়। যে ভ্যান, লরি আর নৌকা ডিজেলে চলে, তার ভাড়া আজকেই বাড়বে না। বাড়বে কাল—চালের বস্তায়, সবজির দরে, স্কুলভ্যানের ভাড়ায়। বিশ টাকা পাম্পে থেমে থাকে না। সে গড়িয়ে যায় সারা শহরে, সারা গ্রামে। জানুয়ারিতে ডিজেল ছিল একশ দুই টাকা। আজ একশ পঁয়ত্রিশ। কেরোসিনে বাড়তি সবচেয়ে বেশি। যাদের চুলায় সিলিন্ডার নেই, তারা এই দামে বাতি জ্বালায়। আর যাদের বাইকটাই রোজগার—খাবার পৌঁছে দেওয়া, যাত্রী নেওয়া—তাদের দিন আগের চেয়ে খাটো। আমরা ভর্তুকির কথা শুনি। শুনি না এই বিশ টাকা কার পকেট থেকে যাবে। বেতন বাড়েনি। বাসভাড়া কাগজে বাঁধা, রাস্তায় নয়। সকালে বের হওয়ার আগে একজন মানুষ এখন ভাবে: আজ বাইক নামাব, নাকি হেঁটে যাব? আমাদের চাওয়া সোজা। দাম বাড়ানোর আগে বলুন এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, আর কোথায় লাগাম থাকবে। পরিবহনের ভাড়া, নিত্যপণ্যের দাম, কৃষকের সেচ—এই তিন জায়গায় বিশ টাকার ছাপ যেন হিসাব ছাড়া না বাড়ে। যারা প্রতিদিন লিটার কিনে বাঁচে, তাদের কথা যেন দামের ঘোষণার পরের লাইনেই থাকে।
গরমের রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যায়, অথচ মাস শেষে বিল আগের চেয়ে বেশি। গ্রামে অবস্থা আরও খারাপ; সেচের সময় বিদ্যুৎ না পেলে কৃষকের ফসল মার খায়। শহরে রান্নার গ্যাস আসে ভোরে আর মাঝরাতে। আমরা শুনি সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু জ্বালানি কেনার টাকা নেই। তাহলে সেই সক্ষমতার জন্য কার টাকায় ভাড়া গুনছি? এই প্রশ্নের সোজা উত্তর মানুষ পায় না। আমাদের চাওয়া: লোডশেডিংয়ের সময়সূচি আগে থেকে জানানো হোক, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের চুক্তি জনসমক্ষে আসুক, সৌরবিদ্যুতে ছাদ ব্যবহারে সহজ ঋণ থাকুক, আর দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানি হোক এবং তার সিদ্ধান্ত মানা হোক।
আপনি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেছেন।