আট মাসের মৃত্যু এক মাসেই ছাড়াল ডেঙ্গু: সেপ্টেম্বরে কী হলো, এখন কী করবেন
পর্যালোচনা করেছেনJonogoner Kotha· সম্পাদকীয় দল·
সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই এ বছর ডেঙ্গুর সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৩৩ জন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৫,৭৩০ জন [১]। এর মধ্যে ১৩৬টি মৃত্যু শুধু সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনে, যেখানে জানুয়ারি থেকে আগস্টের আট মাসে মৃত্যু ছিল ৯৭ (আমাদের হিসাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য থেকে) [১, ৩]। ২৭ সেপ্টেম্বর এক দিনে ২,১৫৮ জন ভর্তি হয়েছেন, এ বছরের সর্বোচ্চ [২, ৪]। আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক তথ্য, আইইডিসিআর ও সিটি করপোরেশনের জরিপ, কীটতত্ত্ববিদদের বিশ্লেষণ আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মিলিয়ে দেখেছি: কেন এই লাফ, সামনে কী হতে পারে, আর আপনার পরিবার এখন কী করবে। শেষে আমাদের প্রস্তাব।
১. সংখ্যায় সেপ্টেম্বর
আগস্টে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ৪৩ জন, দিনে গড়ে দেড়জনেরও কম। সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনে মৃত্যু ১৩৬, দিনে গড়ে প্রায় পাঁচজন (আমাদের হিসাব) [৩, ১]। হাসপাতালে ভর্তির হিসাবও একই গল্প বলে। আগস্টে ভর্তি হয়েছিলেন ২০,৫৩৬ জন [৩]; সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনেই প্রায় ৩৯,৯০০ জন, যা জানুয়ারি থেকে আগস্টের আট মাসের মোট ভর্তির (প্রায় ৩৫,৮০০) চেয়েও বেশি (আমাদের হিসাব) [১, ৩]। এ বছরের মোট মৃত্যুর প্রায় ৫৮ শতাংশ ঘটেছে এই এক মাসে।
২৭ সেপ্টেম্বর সকালে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫,৪৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী [২]। পরদিনের হিসাবে নতুন ভর্তি ২,০৩৬ জন; তাঁদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ৩৭৫ জন, বাকিরা ঢাকা বিভাগের অন্য জেলা, চট্টগ্রাম (৩২৩), খুলনা (২৬৭), বরিশাল (২৫৪), রাজশাহী (১৯৭), ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটে [১]। মানে নতুন রোগীর প্রতি পাঁচজনের চারজনের বেশি ঢাকার দুই সিটির বাইরের (আমাদের হিসাব)।
২. ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকার রোগ নয়
১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বছরের ১৭১টি মৃত্যুর মধ্যে ঢাকায় ৮০, খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, চট্টগ্রামে ১৬, বরিশালে ১৩, রাজশাহীতে ৮, রংপুরে ৩, সিলেটে ১ [৫]। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি মৃত্যু ঢাকার বাইরে। আইইডিসিআর জানিয়েছে, ডেঙ্গু এখন দেশের ৬৪ জেলাতেই; ঢাকাসহ ১৫টি জেলায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছে, যার মধ্যে আছে খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশাল, বরগুনা, বান্দরবান ও পটুয়াখালী [৬]। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারও একই কথা বলছেন: রোগটা আর ঢাকায় কেন্দ্রীভূত নেই; খুলনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বান্দরবান, পিরোজপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জে রোগী বাড়ছে [৫]।
গ্রামে ছড়ানোর একটা কারণ মশার ধরন আর পানি রাখার অভ্যাস। আইইডিসিআরের ২০২৫ সালের জরিপে ঝিনাইদহে ব্রুটো সূচক পাওয়া গিয়েছিল ৬০, মাগুরায় ৫৫; ঝুঁকির সীমা ধরা হয় ২০ [১১]। মাগুরা আর পিরোজপুরে যে মশা পাওয়া গেছে, তার সবই ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস, যে মশা গাছপালা আর বাড়ির আশপাশে বেশি থাকে [১১]। আইইডিসিআরের পরিচালকের ব্যাখ্যা ছিল, পানির সংকটে মানুষ বড় মাটির মটকা আর ড্রামে পানি জমিয়ে রাখে, আর সেগুলোই হয়ে উঠছে প্রজননস্থল [১১]।
৩. কেন এখন এই লাফ
জুলাইয়ে ৩৬ আর আগস্টে ৪৩ মৃত্যুর পর সেপ্টেম্বরে এই লাফ [৩]। বর্ষার বৃষ্টিতে জমা পানি, শহরের নির্মাণাধীন ভবন আর বহুতল বাড়ির জমা পানির পাত্র মিলে এডিসের প্রজনন বাড়ে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মে মাসের বর্ষার-আগের জরিপেই ৭৫টি ওয়ার্ডের ৬৩টিতে এডিসের ঝুঁকি, আর ২৭টিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া গিয়েছিল [১০]। আইইডিসিআরের ২০২৫ সালের জরিপে ঢাকার বহুতল ভবনের ৫৮ শতাংশে এডিসের লার্ভা মিলেছিল, আগের বছর যা ছিল ৪২ শতাংশ [১১]। মানে সতর্কসংকেত বছরের মাঝামাঝিতেই ছিল।
দ্বিতীয় কারণ দ্বিতীয়বারের সংক্রমণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, যাঁরা দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তাঁদের গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি [১৫]। বাংলাদেশে ২০২৩ সালে ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, মারা গিয়েছিলেন ১,৭০৫ জন [৯]; ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও রোগী ছিল লাখের ঘরে [৮]। অর্থাৎ বহু মানুষ আগে একবার আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের জন্য আবার আক্রান্ত হওয়া বেশি বিপজ্জনক।
তৃতীয় কারণ দেরিতে চিকিৎসা। সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদের মতে, দ্রুত রোগনির্ণয় আর সময়মতো চিকিৎসাই গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু ঠেকানোর মূল উপায় [৫]। জ্বর নেমে গেলে অনেকে ভাবেন সেরে উঠেছেন, অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বিপজ্জনক লক্ষণগুলো প্রায়ই জ্বর চলে যাওয়ার পরই আসে [১৫]। এ বছর মৃত্যুর হার, অর্থাৎ ভর্তি রোগীর মধ্যে মৃত্যুর অনুপাত, প্রায় ০.৩১ শতাংশ; ২০২৫ সালে ছিল প্রায় ০.৪০, ২০২৩ সালে ০.৫৩ শতাংশ (আমাদের হিসাব) [১, ৮, ৯]। হার কমেছে, কিন্তু রোগী যত বাড়ে, মৃত্যুর সংখ্যাও তত বাড়ে।
৪. সামনে কী: অক্টোবর আরও খারাপ হতে পারে
অধ্যাপক কবিরুল বাশার ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর পূর্বাভাস মডেল তুলে ধরে বলেছেন, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে [৭]। আইইডিসিআরের পরিচালকও বলেছেন, তাঁদের হিসাব নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়, সম্ভাব্য পরিস্থিতির বৈজ্ঞানিক অনুমান; তবে সংক্রমণ আরও কয়েক সপ্তাহ উঁচুতে থাকতে পারে [৬]। গত বছরের অভিজ্ঞতাও সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়: ২০২৫ সালে অক্টোবরে ৮০ জন আর নভেম্বরে ১০৪ জন ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন, ডিসেম্বরেও ৩০ জন [৮]। মানে বর্ষা ফুরোলেই ডেঙ্গু ফুরোয় না। কবিরুল বাশার শীতেও সতর্ক থাকতে বলেছেন, কারণ মশা কম চোখে পড়লেও ঝুঁকি থাকে [৭]।
৫. জ্বর হলে কী করবেন
প্রথমত, দেরি না করে পরীক্ষা। সরকারি সব হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করা যাবে; বেসরকারি হাসপাতালে সরকার-নির্ধারিত সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা [১৪]। জ্বরের প্রথম দিনগুলোতেই এই পরীক্ষা সবচেয়ে কাজের; বেশি টাকা চাইলে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জানান।
দ্বিতীয়ত, ওষুধে সাবধান। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। জ্বর আর ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল; আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশক খাবেন না, এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় [১৫]। বিশ্রাম নিন, প্রচুর পানি ও তরল খান (খাবার স্যালাইন, স্যুপ, ডাবের পানি, ফলের রস), আর চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
তৃতীয়ত, বিপদচিহ্ন চিনে রাখুন। নিচের যেকোনোটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান, জ্বর নেমে গেলেও [১৫, ১৬]:
- পেটে তীব্র ব্যথা
- বারবার বমি
- দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট
- মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, কিংবা কালো পায়খানা
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি
- খুব পিপাসা, ত্বক ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে আসা
শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক মানুষ আর যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা আছে, কিংবা যাঁরা আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আরও আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই নিরাপদ।
চতুর্থত, রোগীকে মশা থেকে দূরে রাখুন। অধ্যাপক কবিরুল বাশারের পরামর্শ, পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে বাড়ির মশা দূর করতে হবে, যাতে ভাইরাস অন্যদের মধ্যে না ছড়ায় [৭]। আক্রান্ত মানুষ দিনে-রাতে মশারির ভেতরে থাকুন।
৬. ঘরে সপ্তাহে একবার ১৫ মিনিট
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল পরামর্শ সহজ: ঘরে পানি জমার পাত্র সপ্তাহে একবার ঢেকে রাখুন, খালি করুন, পরিষ্কার করুন [১৫]। প্রতি শুক্রবার বা শনিবার পরিবারের সবাই মিলে ১৫ মিনিটে এই কাজগুলো করতে পারেন:
- ফুলের টব ও টবের নিচের প্লেট, ফ্রিজের পেছনের ট্রে আর এসির পানি জমার জায়গা খালি করুন
- পানির ড্রাম, বালতি আর মাটির মটকার মুখ শক্ত করে ঢেকে রাখুন; গ্রামে এটাই সবচেয়ে জরুরি
- ছাদ, বারান্দা আর সিঁড়ির কোণে জমে থাকা পানি সরান; পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা, দইয়ের পাত্র, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে দিন
- বাড়িতে নির্মাণকাজ চললে লিফটের গর্ত আর বেজমেন্টে জমা পানি দেখুন
এডিস মশা সাধারণত দিনে কামড়ায় [১৫], তবে কবিরুল বাশার সতর্ক করেছেন যে রাতেও কামড়ায় [৭]। তাই দিনের বেলায়ও শিশুদের হাত-পা ঢাকা কাপড়, মশা তাড়ানোর ক্রিম আর রাতে মশারি।
৭. সিটি করপোরেশন কী করছে, আর কী যথেষ্ট নয়
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তিন মাসের কর্মসূচিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাচ্ছে; ১৩ সেপ্টেম্বর মিরপুর, রূপনগর, পল্লবী, আগারগাঁও, উত্তরা, নিকুঞ্জ ও বারিধারায় লার্ভা পাওয়ায় ২৮টি মামলায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় [১২]। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সব ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন অভিযান শুরু করেছে, চলবে তিন মাস [১৩]।
এই উদ্যোগ দরকারি, কিন্তু দুটি প্রশ্ন থেকে যায়। এক, সময়। বর্ষার আগেই যখন দক্ষিণ সিটির ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিতে ছিল [১০], তখন বড় অভিযান সেপ্টেম্বরে কেন? দুই, পদ্ধতি। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, শুধু ফগিং দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ হয় না; যেখানে লার্ভা জন্মায়, কাজ পৌঁছাতে হবে সেখানে [৫, ৭]। আর ঢাকার বাইরের পৌরসভা ও উপজেলায়, যেখানে এখন অর্ধেকের বেশি মৃত্যু, মশা নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত কাঠামোই দুর্বল।
৮. আমাদের প্রস্তাব
প্রথম, সারা বছরের কাজ, তিন মাসের অভিযান নয়। লার্ভা ধ্বংসের কাজ চলুক বছরজুড়ে, সবচেয়ে জোর দিয়ে বর্ষার আগের মাসগুলোতে। ফগিংয়ের বাজেটের বড় অংশ যাক উৎস ধ্বংসে: নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল বাড়ির পানির ট্যাংক আর পরিত্যক্ত জায়গা।
দ্বিতীয়, ওয়ার্ডভিত্তিক খোলা তথ্য। প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা প্রতি মাসে ওয়ার্ডভিত্তিক লার্ভা সূচক আর রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করুক, যাতে বাসিন্দারা জানেন তাঁদের এলাকা কতটা ঝুঁকিতে আর কাউন্সিলরকে প্রশ্ন করতে পারেন।
তৃতীয়, ঢাকার বাইরের হাসপাতাল প্রস্তুত করা। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুর আলাদা শয্যা, রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, স্যালাইন আর প্রশিক্ষিত চিকিৎসক-নার্স নিশ্চিত হোক; কখন রোগীকে বড় হাসপাতালে পাঠাতে হবে, তার স্পষ্ট নিয়ম থাকুক। মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি যখন ঢাকার বাইরে, তখন চিকিৎসার প্রস্তুতিও সেখানেই দরকার।
চতুর্থ, বিনা মূল্যে পুরো পরীক্ষা। এনএস১-এর মতো রক্তের অন্য যে পরীক্ষাগুলো দিয়ে রোগীর অবস্থা বোঝা হয়, সেগুলোও সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে হোক; বেসরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি হোক।
পঞ্চম, গ্রামের পানির সংকটকে ডেঙ্গুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। যেসব এলাকায় মানুষ মটকা আর ড্রামে পানি জমাতে বাধ্য, সেখানে ঢাকনা বিতরণ আর নিরাপদ পানির ব্যবস্থা মশা নিয়ন্ত্রণেরই অংশ হোক।
ষষ্ঠ, অক্টোবর-নভেম্বরের প্রস্তুতি এখনই। গত বছর এই দুই মাসেই ১৮৪ জন মারা গিয়েছিলেন [৮]। হাসপাতালের শয্যা, স্যালাইন আর জনবলের পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করা হোক, যাতে ভিড় বাড়লে রোগী ফিরে যেতে না হয়।
শেষ কথা
ডেঙ্গু প্রতিরোধযোগ্য, আর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর বড় অংশ ঠেকানো যায় সময়মতো পরীক্ষা আর বিপদচিহ্ন চিনে দ্রুত হাসপাতালে গেলে। রাষ্ট্রের দায় সারা বছর মশার উৎস ধ্বংস আর হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা; আমাদের দায় নিজের ঘরের পানি জমার পাত্রটা সপ্তাহে একবার খালি করা। আপনার এলাকায় মশানিধনের কাজ কেমন চলছে, হাসপাতালে পরীক্ষা বা শয্যা পেতে কী অভিজ্ঞতা হলো, জানান; পাঠকের অভিজ্ঞতা থেকেই পরের অনুসন্ধান শুরু হবে।
এই লেখা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। জ্বর হলে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
তথ্যসূত্র
- [১] ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, ২,০৩৬ জন ভর্তি; মোট মৃত্যু ২৩৩, রোগী ৭৫,৭৩০ (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/healthcare/disease/news/8-more-die-dengue-2036-hospitalised-24-hours-4285216
- [২] ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, ২,১৫৮ জন ভর্তি; হাসপাতালে ৫,৪৬৩ জন (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/healthcare/disease/news/6-more-die-dengue-2158-hospitalised-day-4284236
- [৩] সেপ্টেম্বরের মৃত্যু আগের আট মাসকে ছাড়াল; মাসভিত্তিক মৃত্যু ও ভর্তি (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — Prothom Alo English: https://en.prothomalo.com/bangladesh/thf7y4af8r
- [৪] ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, একদিনে সর্বোচ্চ ২১৫৮ জন ভর্তি (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — আজকের পত্রিকা: https://www.ajkerpatrika.com/health/ajpesxoap4v6x
- [৫] ডেঙ্গু আরও প্রাণঘাতী; বিভাগভিত্তিক মৃত্যু, কবিরুল বাশার ও বে-নজির আহমেদের বিশ্লেষণ (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — Dhaka Tribune: https://www.dhakatribune.com/bangladesh/health/419983/dengue-takes-deadlier-turn
- [৬] আইইডিসিআর: ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গু বাড়তে পারে, সংক্রমণ ৬৪ জেলায় (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/health/dengue-may-worsen-next-week-dhaka-14-other-districts-iedcr-warns-1541866
- [৭] কবিরুল বাশার: অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/dengue-situation-likely-worsen-further-oct-expert-1542086
- [৮] ২০২৫ সালে ডেঙ্গু: ১,০২,৫৬২ রোগী, ৪১২ মৃত্যু; মাসভিত্তিক মৃত্যু ও ২০২৪ সালের তুলনা (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) — Xinhua: https://english.news.cn/asiapacific/20251228/9a4660d1534a441fbfc85d88abe63dc6/c.html
- [৯] ২০২৩ সালে ৩,২১,১৭৯ জন ভর্তি, ১,৭০৫ মৃত্যু (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — bdnews24: https://bdnews24.com/bangladesh/yd4u29kltc
- [১০] ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্ষার-আগের জরিপ: ৭৫ ওয়ার্ডের ৬৩টি ঝুঁকিতে, ২৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ (৬ জুন ২০২৬) — BSS: https://www.bssnews.net/special-stories/392989
- [১১] আইইডিসিআরের এডিস জরিপ: ঝিনাইদহ-মাগুরায় উচ্চ ঘনত্ব, ঢাকার বহুতল ভবনের ৫৮% লার্ভা (২০২৫) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/health/iedcr-aedes-survey-jhenaidah-magura-record-high-density-dhaka-sees-16-yoy-rise
- [১২] উত্তর সিটির ভ্রাম্যমাণ আদালত: ২৮ মামলায় ১.৭৭ লাখ টাকা জরিমানা (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — Dhaka Tribune: https://www.dhakatribune.com/bangladesh/419776/dncc-fines-tk-1.77-lakh-over-aedes-larvae-in
- [১৩] দক্ষিণ সিটির ৭৫ ওয়ার্ডে প্রতি শনিবার অভিযান, তিন মাস (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The New Nation: https://dailynewnation.com/news/857208
- [১৪] সরকারি হাসপাতালে এনএস১ পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে; বেসরকারিতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা (৬ জুলাই ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/health/disease/news/dengue-ns1-test-made-free-public-hospitals-until-dec-31-4217251
- [১৫] ডেঙ্গু ও গুরুতর ডেঙ্গু: লক্ষণ, বিপদচিহ্ন, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/dengue-and-severe-dengue
- [১৬] গুরুতর ডেঙ্গুর বিপদচিহ্ন — CDC: https://www.cdc.gov/dengue/stories/severe-dengue.html
মন্তব্য