মাঠে ৩০ টাকার চাল দোকানে ৬০: দ্রব্যমূল্য কেন নামে না, বাড়তি টাকা যায় কার পকেটে
পর্যালোচনা করেছেনJonogoner Kotha· সম্পাদকীয় দল·
বাজারের থলে হাতে যিনিই বের হন, তিনি জানেন গত চার বছরে সংসারের হিসাব আর মেলে না। খবরে আসে মূল্যস্ফীতির হার কমছে, কিন্তু দোকানে দাম নামে না; কমে শুধু বাড়ার গতি। এর মধ্যে মানুষের মজুরি দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে। আমরা পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাসিক হিসাব, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন, প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়, সিপিডির মাঠ-থেকে-দোকান গবেষণা আর বাজারের খবর মিলিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি: দাম কেন বাড়ে, কেন নামে না, আর সরকারের এত উদ্যোগ কেন কম কাজে লাগে। এই লেখা সেই অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপ, আর শেষে আমাদের প্রস্তাব।
১. দাম কতটা বেড়েছে, মজুরি কতটা পিছিয়েছে
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে মূল্যস্ফীতি চূড়ায় ওঠে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে: সার্বিক ১১.৬৬ শতাংশ, খাদ্যে ১৪.১০ শতাংশ [১]। এরপর হার নেমেছে; ২০২৬ সালের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.২৬ শতাংশ, খাদ্যে ৭.০২ আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৯.৩২ শতাংশ [২]। মনে রাখা দরকার, ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি মানে দাম কমা নয়; মানে গত বছরের চড়া দামের ওপর আরও ৮ শতাংশ। আর এখন খাবারের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে খাদ্যবহির্ভূত খরচ, অর্থাৎ ভাড়া, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, চিকিৎসার মতো খাত।
মজুরির হিসাব আরও কঠিন। ২০২২ সালের জানুয়ারির পর কোনো মাসেই মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়াতে পারেনি; ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত টানা ৫৩ মাস [৩]। জুলাই আর আগস্টেও মজুরি বেড়েছে দামের চেয়ে কম; আগস্টে মজুরি ৮.০৫ শতাংশ, দাম ৮.২৬ শতাংশ [৪, ২]। আমাদের হিসাবে ধারাটা এখন ৫৫ মাসের। বিশ্বব্যাংক বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি দামের সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি, আর দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ থেকে ২০২৫ সালে ২১.৪ শতাংশে উঠেছে [৫]।
২. ডলার, জ্বালানি আর সুদ: যে চাপ বাইরে থেকে আসে
দামের একটা অংশ আসে দেশের বাইরে থেকে। ২০২২ সালের শুরুতে এক ডলার কিনতে লাগত ৮৫.৮০ টাকা, বছর শেষে ১০৫.৪০ টাকা [৬]; ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারিত গড় হার ১২৩.২২ টাকা [৭]। ভোজ্যতেল, চিনি, গম, ডালের মতো যা আমদানি হয়, তার দাম ডলারের সঙ্গে ওঠে।
জ্বালানি দ্বিতীয় চাপ। ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেল এক ধাক্কায় লিটারে ৮০ থেকে ১১৪ টাকা হয় [৮]। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোয় ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সব জ্বালানি তেলে লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ডিজেল এখন ১৩৫ টাকা [৯]; জুনে বিদ্যুতের খুচরা দামও গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বেড়েছে [১০]। ডিজেলে চলে সেচের পাম্প আর পণ্যবাহী ট্রাক; তাই জ্বালানির প্রতিটি টাকা শেষ পর্যন্ত চাল-সবজির দামে যোগ হয়। সেপ্টেম্বরের বৃদ্ধির প্রভাব এখনো মাসিক হিসাবে আসেনি।
দাম ঠেকাতে ধাপে ধাপে বাড়ানো নীতি সুদহার ছয় বছরে প্রথমবার ২০২৬ সালের ২ আগস্ট থেকে ১০ থেকে ৯.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে [১১]। তবে ডলার, জ্বালানি আর সুদ দিয়ে পুরো গল্প বোঝা যায় না। দেশে উৎপাদিত চাল, আলু, সবজির দামও লাফ দেয়, আর আমদানি খরচ কমলেও দোকানের দাম নামে না। বাকি উত্তর বাজারের ভেতরে।
৩. মাঠ থেকে থলে: দামের সিঁড়ি
সিপিডি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিভাগের দশটি পণ্যের দাম মাঠ থেকে খুচরা দোকান পর্যন্ত মেপে দেখিয়েছে, মাঝারি চাল কৃষকের কাছ থেকে কেজিপ্রতি ৩০.৬৫ টাকায় কিনে দোকানে বিক্রি হয় ৫৯.৬৯ টাকায়, প্রায় দ্বিগুণ [১২]। একই পথে কাঁচা মরিচের দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ, পেঁয়াজ ৮৭, মসুর ডাল ৭৮, বেগুন ৭২, আলু ৫০ শতাংশ; ডিম আর ব্রয়লারে বাড়ে ২০-২৫ শতাংশের মতো [১২]। চালে সবচেয়ে বড় মার্জিন নেয় চালকল [১৩]। গবেষণাটি পাঁচ মাসের তথ্যের ওপর দাঁড়ানো, তাই সংখ্যাগুলো চূড়ান্ত নয়; কিন্তু দিকটা স্পষ্ট।
দামের সিঁড়িটা মাঠে গেলে চোখে পড়ে। বগুড়ার মহাস্থান হাটে যে বরবটি কেজি ৪০ টাকা, কারওয়ান বাজারে সেটা ১৩০ টাকা; কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার হিসাবে পণ্য ছয়-সাতবার হাতবদল হয়, আর প্রতি হাতে কেজিতে ২ থেকে ৮ টাকা যোগ হয় [১৪]। সিপিডি দেখেছে, দশটি পণ্যের ছয়টিতেই খুচরা বিক্রেতারা শহরের আড়তদারের ওপর নির্ভরশীল [১৫]। মানে দাম ঠিক হয় কয়েকটি আড়তে, যেখানে কৃষক বা ক্রেতা কারও দর-কষাকষির জোর নেই।
এর দাম সবচেয়ে বেশি দেন সবচেয়ে গরিব মানুষ। একই গবেষণা অনুযায়ী ভোক্তা মূল্যসূচকের ৫৯ শতাংশই খাদ্য, আর সবচেয়ে গরিব ৫ শতাংশ পরিবার খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ করে খাবারে, যেখানে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের ক্ষেত্রে তা ২৮.৯ শতাংশ [১৫]।
৪. গুটিকয়েক আমদানিকারক, কয়েকটি কারখানা
আমদানিনির্ভর পণ্যে বাজার আরও সরু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে আমদানি হওয়া ২৫.৭ লাখ টন সয়াবিন ও পাম তেলের ৮০ শতাংশ এনেছে চারটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী; দশক আগে তাদের ভাগ ছিল ২৫ শতাংশের মতো, আর পরিশোধন কারখানা ১৬-১৭টি থেকে কমে ১১টি [১৬]। চিনিতে দুটি গোষ্ঠী অপরিশোধিত চিনি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ এনেছে, আর পাঁচটি বেসরকারি কারখানা দেশের পরিশোধিত চিনির চাহিদার ৯৮ শতাংশের বেশি মেটায় [১৭]। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, ভোজ্যতেল, আটা, পেঁয়াজ ও চিনির খুচরা দাম আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি [১৮]।
বাজার গুটিকয়েকের হাতে থাকলে কারসাজির সুযোগ বাড়ে, আর সেটা এখন শুধু অভিযোগ নয়। ২০২২ সালের আগস্টে ব্রয়লারের দাম কেজি ১৬০-১৭০ থেকে ২৩০ টাকায় তোলার ঘটনায় প্রতিযোগিতা কমিশন দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে [১৯]। ২০২২ সালের তেল-সংকটে এক পরিশোধনকারী হাতে অপরিশোধিত তেল থাকা সত্ত্বেও সক্ষমতার ৫৬ শতাংশে কারখানা চালিয়ে সরবরাহ সীমিত রেখেছিল; কমিশন তাকে ৩২.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে, তবে রায় এসেছে প্রায় চার বছর পরে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে [২০]। চার বছর পরের জরিমানায় সেই সংকটের বাড়তি দাম ক্রেতার কাছে ফেরে না।
ধারাটা থামেনি। ২০২৬ সালের রমজানের আগে চাহিদা যেখানে ৩ লাখ টন, আমদানি হয়েছিল ৩.৬৬ লাখ টন; তবু খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে, আর খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ করেছেন [২১]। এপ্রিলে বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ১৯৫ টাকা বেঁধে দেওয়া থাকলেও বিক্রি হয়েছে ২০০-২১০ টাকায়, আর খুচরা দোকান স্বাভাবিকের ৪০ শতাংশেরও কম সরবরাহ পেয়েছে [২২]।
৫. পথে পথে চাঁদা
ট্রাক ঢাকায় ঢোকার আগেই দামের সঙ্গে আরেকটা খরচ যোগ হয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকার পাইকারি বাজারে ট্রাকপ্রতি ১,২০০-১,৫০০ টাকা "বাজার উন্নয়ন ফি" নেওয়া হয়; যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার, আবদুল্লাহপুরসহ বগুড়া-ঢাকা পথের আরও সাতটি জায়গায় চাঁদা আদায় হয়; আর মধ্যস্বত্বভোগীরা এক রাতে ৮-১০ হাজার টাকা আয় করেন [২৩]। ২০২৪ সালের আগস্টে কয়েক দিন যখন পথে চাঁদা তোলা বন্ধ ছিল, কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা বলেছিলেন তিন দিনে সবজির দাম কেজিতে অন্তত ১৫ টাকা কমেছে [২৪]। এটা মাপা হিসাব নয়, বিক্রেতাদের দাবি; তবু বোঝা যায়, চাঁদা কোনো অদৃশ্য খরচ নয়, শেষে ক্রেতাই তা শোধ করেন।
৬. শুল্ক কমে, দাম কমে না
সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আমদানি শুল্ক। ২০২৪ সালের অক্টোবরে চাল আমদানিতে মোট করভার ৬২.৫ থেকে ২ শতাংশে নামানো হয়; রাজস্ব বোর্ড আশা করেছিল কেজিতে খরচ ২৫.৪৪ টাকা কমবে, অথচ ঢাকায় মোটা চাল তখনো ৫২-৫৫ টাকা [২৫]। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের হিসাবে সে সময় বিভিন্ন পণ্যে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছিল; টিসিবির তথ্যে পরের এক মাসে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ, সয়াবিন ও পাম তেলের ১২ শতাংশ, আমদানি করা পেঁয়াজের ৫ শতাংশ [২৬]। শুল্কছাড়ের টাকা পথে কোথাও আটকে যায়, ক্রেতার কাছে পৌঁছায় না।
দেশে উৎপাদিত পণ্যেও একই ছবি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দশ জেলার ক্রেতারা অভিযোগ করেন, হিমাগারে কেজি ১৮-২০ টাকায় কেনা আলু খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়, অথচ সে বছর উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি ছিল [২৭]। আর যেখানে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে বাইরের একটা সিদ্ধান্তই যথেষ্ট: ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে রাতারাতি দেশি পেঁয়াজ কেজি ১৪০ থেকে ২২০ টাকা হয়; তখন অনুমোদিত ১৯.৯০ লাখ টন আমদানির মাত্র ৭.০৫ লাখ টন দেশে এসেছিল [২৮]।
৭. বেঁধে দেওয়া দাম, অভিযান আর কার্ড
দাম বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা বারবার হয়েছে, ফল মেলেনি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিটি ডিম ১২ টাকা, আলু কেজি ৩৫-৩৬ আর পেঁয়াজ ৬৪-৬৫ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়; দুই সপ্তাহ পর বাজারে বিক্রি হয়েছে সাড়ে ১২, ৫০ আর ৮৫ টাকায় [২৯]। ২০২৪ সালের মার্চে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২৯টি পণ্যের দাম ঠিক করে দেয়; পরদিন সরকারেরই সংস্থা টিসিবির জরিপে আলু মিলেছে ৩৫-৪০ টাকায় (বেঁধে দেওয়া ২৮.৫৫), পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় (৬৫.৪০)। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা তখন স্বীকার করেন, সেই দাম কার্যকর করার সামর্থ্য তাঁদের নেই [৩০]।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪,২৭৯টি অভিযানে ২৭,২৪৩টি প্রতিষ্ঠানকে ২৪.২৭ কোটি টাকা জরিমানা করেছে [৩১]। সংখ্যাটা বড় শোনায়, কিন্তু প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাত্র ৯০ জন, ঢাকায় ১৯ জন; তিন শর বেশি পদ চেয়ে তারা পেয়েছে ১২টি [৩২]। জরিমানা পড়ে দোকানদারের ঘাড়ে, কিন্তু দাম ঠিক হয় আমদানি, কারখানা আর আড়তে; অভিযান সেখানে পৌঁছায় কম।
সরাসরি সহায়তাতেও ফাঁক রয়ে গেছে। টিসিবির প্রায় এক কোটি কার্ড জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে ৫৭ লাখ স্মার্ট কার্ডে নামানো হয়, দ্বৈততার কারণে বাদ পড়ে ৪৩ লাখ [৩৩]। তালিকা পরিষ্কার করা জরুরি ছিল, কিন্তু রূপান্তরের সময় চট্টগ্রাম নগরে ৩,০০,৯৬৩ জনের বরাদ্দের বিপরীতে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চালু হয়েছিল মাত্র ৮ হাজার কার্ড; প্রায় পাঁচ মাস মানুষ পণ্য পাননি [৩৪]। খোলাবাজারে (ওএমএস) ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে ৫.৭৮ লাখ টন চাল-আটা বিক্রি হয়েছে, কিন্তু দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে খালি হাতে ফিরেছেন [৩৫]; আবার সেই চাল বাণিজ্যিক বস্তায় ভরে বিক্রির চেষ্টাও ধরা পড়েছে [৩৬]। নতুন উদ্যোগ হিসেবে মাসে ২,৫০০ টাকার নগদ পরিবার কার্ড চালু হচ্ছে; এ অর্থবছরে ৪১ লাখ, চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা [৩৭]।
৮. সংসারে এর দাম
পরিসংখ্যানের আড়ালে আছে বদলে যাওয়া খাবারের থালা। সানেমের ২০২৩ সালের জরিপে ৭০ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, উচ্চ দামের কারণে তারা খাদ্যাভ্যাস বদলেছে, আর ২৮ শতাংশ ধার করেছে [৩৮]। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কম মজুরির শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি ২ শতাংশ কমেছে, আর সবচেয়ে গরিব ৪০ শতাংশ পরিবারের নিট দেনা ছয় মাসে ৭ শতাংশ বেড়েছে [৩৯]।
পিপিআরসির ২০২৫ সালের মে মাসের জরিপ আরও উদ্বেগজনক: তাদের হিসাবে দারিদ্র্য ২৭.৯৩ শতাংশ আর চরম দারিদ্র্য ৯.৩৫ শতাংশ [৪০]; সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ পরিবার মাসে আয় করে ৮,৪৭৭ টাকা, খরচ করে ১২,২৯৪ টাকা, আর প্রায় ৯ শতাংশ গরিব পরিবার পুরো একটা দিন না খেয়ে থেকেছে [৪১]। সংস্থাভেদে পদ্ধতি আলাদা, তাই সংখ্যা মেলে না; কিন্তু সবগুলো একই দিকে দেখায়। খাদ্য মন্ত্রণালয়, এফএও ও ডব্লিউএফপিসহ অংশীদারদের আইপিসি বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের মে-আগস্টে ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিল, সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে যা ১ কোটি ৮১ লাখে উঠতে পারে; কারণের তালিকায় আছে খাদ্য ও জ্বালানির দাম [৪২]।
মজুরির দিকে তাকালে ফাঁকটা আরও স্পষ্ট। পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ১২,৫০০ টাকা; আইন অনুযায়ী তিন বছর পর পর্যালোচনার সময় এসেছে, কিন্তু নতুন মজুরি ঘোষণা হয়নি [৪৩]। অথচ গ্লোবাল লিভিং ওয়েজ কোয়ালিশনের হিসাবে ঢাকায় চারজনের একটি পরিবারের মৌলিক মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য একজন কর্মীর দরকার মাসে ৩০,৪৫৯ টাকা [৪৪]।
৯. যা করলে সত্যিই বদলাবে: আমাদের প্রস্তাব
প্রথম, দাম বেঁধে দেওয়ার বদলে দাম খুলে দিন। প্রতিটি নিত্যপণ্যের মাঠ, পাইকারি আর খুচরা দাম প্রতিদিন এক জায়গায় প্রকাশ হোক, আর বড় আমদানিকারক ও পরিশোধনকারীদের আমদানি, মজুত ও সরবরাহের তথ্য সপ্তাহে একবার। যে দাম সবাই দেখতে পায়, তা নিয়ে কারসাজি কঠিন। দেশে এখনো কোনো মূল্য কমিশন নেই, বিষয়টি শুধু আলোচনায় আছে [৪৫]; আলোচনা থেকে কাজে যাওয়ার সময় এসেছে।
দ্বিতীয়, আমদানিতে প্রতিযোগী বাড়ান। ছোট ও নতুন আমদানিকারকের জন্য ঋণপত্র আর শুল্কায়নের পথ সহজ হোক; দুই মাসের বাফার মজুত আর বেশি আমদানিকারকের যে পরিকল্পনার কথা সরকার বলেছে [৪৬], তা সময়সীমা ধরে বাস্তবায়ন হোক। চারটি গোষ্ঠীর হাতে ৮০ শতাংশ থাকলে কোনো অভিযান দাম নামাতে পারবে না।
তৃতীয়, প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলা চার বছরে নয়, এক বছরে শেষ হোক। সংকটের সময়েই অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হোক, আর প্রতিটি তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসুক।
চতুর্থ, চাঁদার পথ বন্ধ করুন। বাজার ও টার্মিনালের সব বৈধ ফি নির্ধারিত হারে, ডিজিটাল রসিদে নেওয়া হোক; যাত্রাবাড়ী, আমিনবাজার, আবদুল্লাহপুরের মতো চিহ্নিত জায়গায় ক্যামেরা বসুক, আর চালকদের জন্য থাকুক অভিযোগ জানানোর হটলাইন। চাঁদার প্রতিটি টাকা ক্রেতার পকেট থেকে যায়।
পঞ্চম, কৃষক থেকে ক্রেতার দূরত্ব কমান। জেলায় জেলায় সংগ্রহকেন্দ্র আর শহরে কৃষকের বাজার হোক, হিমাগারের মজুতের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ হোক, আর সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ যতটা সম্ভব সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে হোক। ছয়-সাত হাত কমে তিন-চার হাতে এলে দাম নামবে, কৃষকও বেশি পাবেন।
ষষ্ঠ, সহায়তা যাঁর দরকার তাঁর হাতে, মাঝখানে কোনো ফাঁক না রেখে। নতুন পরিবার কার্ড চালুর সময় পুরোনো কার্ড যেন হঠাৎ বন্ধ না হয়, তালিকা যেন জাতীয় পরিচয়পত্রে মেলানো থাকে, আর ওএমএসের চাল-আটা যেন ডিজিটাল টোকেনে বিক্রি হয়।
সপ্তম, মজুরি। পোশাক খাতসহ সব খাতের ন্যূনতম মজুরি জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে প্রতিবছর সমন্বয় হোক। দাম যেখানে প্রতিবছর বাড়ে, মজুরি কয়েক বছরে একবার বাড়লে ফাঁক কখনো বন্ধ হবে না।
অষ্টম, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে সক্ষম করুন। ৯০ জন কর্মকর্তা দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের বাজার দেখা যায় না; লোকবল বাড়ুক, আর অভিযান দোকান ছাড়িয়ে আড়ত, চালকল ও গুদাম পর্যন্ত যাক।
শেষ কথা
দ্রব্যমূল্য শুধু অর্থনীতির সংখ্যা নয়; এটা প্রতিদিনের থালা, সন্তানের পুষ্টি আর মাস শেষের ধার। ডলার আর বিশ্ববাজারের ওপর আমাদের হাত সীমিত, কিন্তু বাজারের ভেতরের কাঠামো আমাদেরই হাতে: কে আমদানি করবে, কত হাত ঘুরে পণ্য আসবে, পথে কে চাঁদা নেবে, কারসাজি ধরা পড়তে কত বছর লাগবে। সেখানে হাত দিলেই মাঠের ৩০ টাকার চাল দোকানে ৬০ টাকা হওয়া থামবে। আপনার এলাকার বাজারে দাম কীভাবে বদলাচ্ছে, মন্তব্যে লিখুন; পাঠকের অভিজ্ঞতা থেকেই পরের অনুসন্ধান শুরু হবে।
তথ্যসূত্র
- [১] ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬%, খাদ্যে ১৪.১০% — BSS: https://www.bssnews.net/business/203556
- [২] আগস্ট ২০২৬: মূল্যস্ফীতি ৮.২৬%, খাদ্যে ৭.০২%, খাদ্যবহির্ভূত ৯.৩২% — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/inflation-eases-again-2nd-straight-month-1535836
- [৩] টানা ৫৩ মাস মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি — Dhaka Tribune: https://www.dhakatribune.com/business/414631/inflation-exceeds-wage-growth-for-53rd-straight
- [৪] আগস্টে মজুরি বৃদ্ধি ৮.০৫%, জুলাইয়ে ৮.২২% — BSS: https://www.bssnews.net/news/421999
- [৫] বিশ্বব্যাংক: দারিদ্র্য ১৮.৭ থেকে ২১.৪% (এপ্রিল ২০২৬) — World Bank: https://www.worldbank.org/en/news/press-release/2026/04/08/urgent-reforms-needed-to-restore-macro-stability-sustain-growth-and-create-jobs-in-bangladesh
- [৬] ২০২২ সালে ডলারের বিপরীতে টাকা ৮৫.৮০ থেকে ১০৫.৪০ — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/economy/news/taka-fell-133-vs-dollar-2022-bb-3393651
- [৭] বাংলাদেশ ব্যাংকের বিনিময় হার — Bangladesh Bank: https://www.bb.org.bd/en/index.php/econdata/exchangerate
- [৮] ডিজেল ৮০ থেকে ১১৪ টাকা (আগস্ট ২০২২) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/environment/natural-resources/energy/news/fuel-price-goes-octane-tk-135-litre-petrol-tk-130-effective-tomorrow-3088646
- [৯] সব জ্বালানি তেলে লিটারে ২০ টাকা বাড়তি (সেপ্টেম্বর ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/fuel-prices-tk-20-across-the-board-4278401
- [১০] বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে ১৬.৬৮% বাড়ল (জুন ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/power-prices-167-average-4190281
- [১১] ছয় বছরে প্রথম নীতি সুদহার কমল, ১০ থেকে ৯.৫% — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/bb-cuts-policy-rate-first-time-6-years-4236826
- [১২] সিপিডি: মাঠ থেকে দোকানে চালের দাম প্রায় দ্বিগুণ — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/rice-price-nearly-doubles-farm-shop-4236871
- [১৩] সিপিডি: চালে সবচেয়ে বড় মার্জিন চালকলের — ITV BD: https://www.itvbd.com/economy/272136/ponyer-dam-bridhi-moddhosottovogi-chadabaji-cpd-di
- [১৪] মহাস্থান হাটের ৪০ টাকার বরবটি কারওয়ান বাজারে ১৩০ — Prothom Alo English: https://en.prothomalo.com/business/local/i75uzn8jln
- [১৫] সিপিডি: গরিব ৫% পরিবারের খরচের প্রায় ৬০% খাবারে — The Financial Express: https://thefinancialexpress.com.bd/trade/cpd-study-finds-rice-prices-double-from-farmgate-to-retail
- [১৬] ভোজ্যতেল আমদানির ৮০% চার গোষ্ঠীর হাতে (২০২৩) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/economy/news/edible-oil-market-now-controlled-big-four-3591461
- [১৭] অপরিশোধিত চিনি আমদানির প্রায় ৭০% দুই গোষ্ঠীর — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/economy/news/sugar-market-state-private-control-3592246
- [১৮] বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: খুচরা দাম আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/edible-oil-flour-onion-retailing-much-higher-import-price-govt-report-671118
- [১৯] ব্রয়লারের দামে কারসাজি: দুই প্রতিষ্ঠানের ৮.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/kazi-farms-fined-tk5-crore-manipulating-poultry-market-715254
- [২০] ২০২২ সালের তেল-সংকট: এক পরিশোধনকারীর ৩২.৪৪ কোটি টাকা জরিমানা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/2022-edible-oil-crisis-shabnam-vegetable-oil-fined-tk3244cr-market-manipulation-1461246
- [২১] চাহিদার বেশি আমদানি সত্ত্বেও তেলের কৃত্রিম সংকট (মার্চ ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/economy/news/artificial-shortage-pushes-edible-oil-prices-4131391
- [২২] ১৯৫ টাকার তেল বিক্রি ২০০-২১০ টাকায় (এপ্রিল ২০২৬) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/news/bottled-soybean-oil-becomes-scarce-4163191
- [২৩] ট্যারিফ কমিশন: ট্রাকপ্রতি ১,২০০-১,৫০০ টাকা বাজার ফি, পথে চাঁদা — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/news/middlemen-extortion-push-vegetable-prices-report-3939561
- [২৪] চাঁদা বন্ধের দিনগুলোয় সবজির দাম কমার দাবি (আগস্ট ২০২৪) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/markets/kitchen-markets-see-price-drop-increased-supply-no-extortion-913081
- [২৫] চাল আমদানিতে করভার ৬২.৫% থেকে ২% — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/nbr/import-duty-cut-will-lead-decrease-rice-price-tk25-kg-nbr-983651
- [২৬] শুল্কছাড়ের পরও চাল, তেল, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/dates-edible-oil-set-import-tax-cuts-ahead-ramadan-996806
- [২৭] হিমাগারে ১৮-২০ টাকার আলু খুচরায় ৭০-৭৫ টাকা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/markets/consumers-10-districts-demand-action-against-potato-syndicate-996381
- [২৮] ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ২২০ টাকা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/economy/bazaar/onion-price-nearly-doubles-overnight-tk220-kg-754246
- [২৯] বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি হয়নি ডিম, আলু, পেঁয়াজ (২০২৩) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/eggs-being-sold-tk125-piece-now-708714
- [৩০] সরকারের নিজের জরিপেই বেঁধে দেওয়া দামের গরমিল (মার্চ ২০২৪) — Dhaka Tribune: https://www.dhakatribune.com/bangladesh/341941/govt%E2%80%99s-own-monitoring-finds-mismatch-between
- [৩১] ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানা — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/economy/news/9500-businesses-fined-over-undelivered-goods-services-4280551
- [৩২] ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে ৯০ জন কর্মকর্তা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/features/panorama/directorate-national-consumers-right-protection-90-officers-handle-million
- [৩৩] টিসিবির ৫৭ লাখ স্মার্ট কার্ড, বাদ ৪৩ লাখ — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/57-lakh-smart-family-cards-prevent-duplication-tcb-988611
- [৩৪] চট্টগ্রামে স্মার্ট কার্ড জটিলতায় টিসিবির পণ্য বন্ধ — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/smart-card-hitch-deprives-lakhs-ctg-tcb-products-months-1164246
- [৩৫] ওএমএসে ৫.৭৮ লাখ টন, লাইনে দুই ঘণ্টা — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/economy/food-ministry-seeks-tk4150cr-more-subsidies-rice-import-amid-rising-demand-1036601
- [৩৬] ওএমএসের চাল বাণিজ্যিক বস্তায় (বাগেরহাট) — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/600-sacks-government-oms-rice-seized-bagerhat-2-arrested-1050131
- [৩৭] পরিবার কার্ড: মাসে ২,৫০০ টাকা, এ অর্থবছরে ৪১ লাখ — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/pm-launch-family-card-august-16-4242016
- [৩৮] সানেম: উচ্চ দামে ৭০% পরিবারের খাদ্যাভ্যাস বদল — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/70pc-households-change-food-habits-high-inflation-3575701
- [৩৯] বিশ্বব্যাংক: কম মজুরির প্রকৃত মজুরি ২% কমেছে — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/news/nutrition-becomes-luxury-the-poor-amid-high-prices-4011256
- [৪০] পিপিআরসি: দারিদ্র্য ২৭.৯৩%, চরম দারিদ্র্য ৯.৩৫% (মে ২০২৫) — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/business/news/poverty-rate-jumps-279-extreme-poverty-nearly-doubles-93-3970246
- [৪১] গরিব ১০% পরিবার আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করে — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/economy/one-four-households-now-under-poverty-line-survey-finds-1219771
- [৪২] আইপিসি: ১.৫৩ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/over-15-million-people-face-acute-food-insecurity-bangladesh-report-1496251
- [৪৩] পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ও নতুন মজুরি বোর্ডের দাবি — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/economy/rmg/industriall-demands-wage-board-reconstitution-new-minimum-wage-garment-workers-1547676
- [৪৪] ঢাকায় জীবনধারণ উপযোগী মজুরি — Global Living Wage Coalition: https://www.globallivingwage.org/living-wage-benchmarks/urban-bangladesh/
- [৪৫] দেশে মূল্য কমিশন নেই, বিষয়টি আলোচনায় — The Business Standard: https://www.tbsnews.net/bangladesh/does-bangladesh-need-price-commission-assessing-agricultural-production-and-demand
- [৪৬] দুই মাসের বাফার মজুত ও বেশি আমদানিকারকের পরিকল্পনা — The Daily Star: https://www.thedailystar.net/news/bangladesh/news/dc-conference-govt-plans-buffer-stocks-curb-price-shocks-4167886
মন্তব্য