Every published opinion, filtered your way: by matter, language, comments and rating.
ক্লাস, চাকরির আবেদন, ব্যাংকের কাজ, এমনকি সরকারি সেবা—সবই এখন অনলাইনে। কিন্তু এক জিবি ডেটার দাম আর তার গতি দেখলে মনে হয় ইন্টারনেট এখনও শহরের কিছু মানুষের জিনিস। গ্রামে নেটওয়ার্ক পেতে ছাদে উঠতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং করে যে তরুণেরা বিদেশি মুদ্রা আনছেন, তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যাওয়া। আর ডেটা প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা গায়েব হওয়াটা কোন যুক্তিতে ঠিক, তা কেউ বোঝায় না। আমাদের প্রস্তাব: ইন্টারনেটকে মৌলিক সেবা হিসেবে দেখা হোক, ডেটার দাম ও গতির মান প্রকাশ্যে তুলনা করার ব্যবস্থা থাকুক, সরকারি স্কুল-কলেজে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই আসুক…
একটা দেশ তখনই ঠিক হয়, যখন মানুষ ভুল দেখলে ভুল বলতে পারে। কিন্তু আমরা দেখেছি, ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে মানুষ মামলার মুখে পড়েছে, সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, আর সাধারণ মানুষ কথা বলার আগে দুইবার ভাবতে শিখেছে। এর উল্টো দিকও আছে। গুজব আর মিথ্যা খবর কয়েক ঘণ্টায় লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায়, আর তার দাম দেয় নিরপরাধ মানুষ। স্বাধীনতা মানে দায়িত্বহীনতা নয়। আমরা চাই মতপ্রকাশের অপরাধ আর ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ আইনে স্পষ্টভাবে আলাদা থাকুক, সমালোচনার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা বন্ধ হোক, ইন্টারনেট বন্ধ করা যেন শেষ উপায়ও না হয়, আর তথ্য যাচাই…
ঢাকা বা চট্টগ্রামে একটা পরিবারের আয়ের অর্ধেকের বেশি চলে যায় বাসা ভাড়ায়। জানুয়ারি এলেই বাড়িওয়ালা নোটিশ দেন, আর ভাড়াটিয়ার হাতে থাকে দুটো পথ: মেনে নেওয়া অথবা মালপত্র নিয়ে আরও দূরে সরে যাওয়া। ভাড়া নিয়ন্ত্রণের আইন আছে, কিন্তু সেটা কেউ মানে না, আর মানানোর কেউ নেই। অগ্রিম, চুক্তিপত্র, রসিদ—কোনোটাই নিয়মে চলে না। যারা বস্তিতে থাকেন তাদের অবস্থা আরও অনিশ্চিত; উচ্ছেদ হয় নোটিশ ছাড়াই। আমাদের চাওয়া: প্রতিটি ভাড়ার লিখিত চুক্তি ও রসিদ বাধ্যতামূলক হোক, বছরে ভাড়া বাড়ানোর একটা যৌক্তিক সীমা থাকুক, সিটি করপোরেশনে ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ডেস্ক থাকুক, আর নিম্ন আয়ের মানু…
যে শ্রমিকদের হাতে আমাদের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত দাঁড়িয়ে, তাদের মাসের বেতনে এখন বাজার করা যায় না। মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা আসে, তারপর বাসা ভাড়া আর চালের দাম সেটা খেয়ে ফেলে। ওভারটাইম না করলে সংসার চলে না, আর ওভারটাইম করলে শরীর টেকে না। কারখানার নিরাপত্তায় অগ্রগতি হয়েছে, এটা স্বীকার করি। কিন্তু হঠাৎ ছাঁটাই, বকেয়া বেতন, আর দাবি তুললেই চাকরি যাওয়ার ভয় এখনও আছে। আমরা চাই মজুরি বোর্ড দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করুক, বকেয়া বেতনের অভিযোগ দ্রুত মীমাংসার একটা জায়গা থাকুক, আর শ্রমিক প্রতিনিধিরা যেন প্রতিশোধের ভয় ছাড়া কথা বলতে…
মাঠে ধানের দাম যখন কমে, শহরে চালের দাম তখনও কমে না। কৃষক সার-বীজ-ডিজেল কেনেন বাড়তি দামে, আর ফসল বেচেন যে দাম মধ্যস্বত্বভোগী ঠিক করে দেয়। মাঝখানের মানুষগুলো লাভ করে, দুই প্রান্তের মানুষ ঠকে। বন্যা বা অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ আসে দেরিতে, আর যাদের সবচেয়ে বেশি দরকার তাদের কাছে প্রায়ই পৌঁছায় না। কৃষিঋণের জন্য এখনও কৃষককে ব্যাংকের বারান্দায় দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। আমাদের প্রস্তাব: সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে হোক, উপজেলায় হিমাগার ও গুদাম বাড়ুক, ফসল বিমা সহজ হোক, আর সারের দাম বদলালে আগে থেকে জানানো…
একজন সাধারণ মানুষ সারা জীবনের সঞ্চয় ব্যাংকে রাখে একটাই বিশ্বাসে: দরকারের সময় টাকাটা ফেরত পাব। গত কয়েক বছরের খবর সেই বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছে। বড় ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার গল্প শুনি, আর ছোট গ্রাহক এক লাখ টাকা তুলতে গিয়ে ফিরে আসেন। ঋণখেলাপি যদি বছরের পর বছর সম্মানে থাকেন আর একজন কৃষক পাঁচ হাজার টাকার জন্য জেলে যান, তাহলে ন্যায়বিচার কোথায়? ব্যাংকের টাকা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটা আমাদের আমানত। আমরা চাই বড় খেলাপিদের নাম প্রকাশ হোক, খেলাপি ঋণ আদায়ে আইন সমান কঠোর হোক, আমানত বিমার সীমা বাস্তবসম্মত হোক, আর ব্যাংকের পরি…
গরমের রাতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যায়, অথচ মাস শেষে বিল আগের চেয়ে বেশি। গ্রামে অবস্থা আরও খারাপ; সেচের সময় বিদ্যুৎ না পেলে কৃষকের ফসল মার খায়। শহরে রান্নার গ্যাস আসে ভোরে আর মাঝরাতে। আমরা শুনি সক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু জ্বালানি কেনার টাকা নেই। তাহলে সেই সক্ষমতার জন্য কার টাকায় ভাড়া গুনছি? এই প্রশ্নের সোজা উত্তর মানুষ পায় না। আমাদের চাওয়া: লোডশেডিংয়ের সময়সূচি আগে থেকে জানানো হোক, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের চুক্তি জনসমক্ষে আসুক, সৌরবিদ্যুতে ছাদ ব্যবহারে সহজ ঋণ থাকুক, আর দাম বাড়ানোর আগে গণশুনানি হোক এবং তার সিদ্ধান্ত মানা হোক।
Every few years Bangladesh talks about reform: of the police, the courts, the election system, the constitution itself. The talk is loudest when anger is high, and it fades as soon as the next government settles in. That is why the same problems keep returning. Reform that lasts is boring on purpose. It means institutions that do not depend on who is in pow…
আমাদের দেশে একটা মেয়ে বড় হয় সতর্কতার তালিকা নিয়ে: এই রাস্তা দিয়ে যেয়ো না, এত রাত করো না, একা যেয়ো না। এই তালিকা যত লম্বা, সমাজ হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা তত বড়। গণপরিবহনে হয়রানি, অনলাইনে অশ্লীল বার্তা, স্কুলে-মাদ্রাসায় শিশুর ওপর নির্যাতন—খবর আসে, কিছুদিন হইচই হয়, তারপর সব চুপ। বিচার শেষ হতে বছর লাগে, আর ততদিনে পরিবার হাল ছেড়ে দেয়। আমরা চাই প্রতিটি থানায় নারী ও শিশু ডেস্ক সত্যিই কাজ করুক, হয়রানির মামলা দ্রুত বিচার আদালতে যাক, স্কুলে শিশুর নিরাপত্তার নীতি ও অভিযোগের পথ স্পষ্ট থাকুক, আর ছেলেদেরও ছোটবেলা থেকে সম্মান করতে শেখা…
দেশের অর্থনীতি টিকে আছে যে মানুষগুলোর ঘামে, তারা বিদেশে যাওয়ার আগে দালালকে লাখ লাখ টাকা দেন, ফিরে এসে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হন, আর মাঝখানের বছরগুলোতে পরিবার থেকে দূরে থাকেন। অনেকে যে চুক্তিতে যান, গিয়ে দেখেন কাজ আলাদা, বেতন কম, পাসপোর্ট মালিকের হাতে। দূতাবাসে গিয়ে সাহায্য পাওয়া কঠিন। আর যারা মারা যান, তাদের লাশ দেশে আনতেও পরিবারকে দৌড়াতে হয়। আমরা চাই অভিবাসনের খরচ সরকার নির্ধারিত ও প্রকাশ্য হোক, দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দৃশ্যমান হোক, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য আলাদা ও সম্মানজনক লাইন থাকুক, আর প্রতিটি দূতাবাসে একটি হটলাইন থাকুক…
Every family in Bangladesh knows someone with a degree and no job. We sit for one recruitment exam after another, pay coaching fees we cannot afford, and watch the age limit creep closer. Meanwhile the advice we hear is "start something yourself", as if a bank would lend to a graduate with no collateral. Unemployment is not only about numbers. It is about a…
প্রতিদিন খবরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা দেখি, আর প্রতিদিন সেটা স্বাভাবিক হয়ে যায়। ফিটনেসহীন বাস, লাইসেন্স ছাড়া চালক, ফুটপাত দখল—কোনোটাই নতুন নয়। মেট্রোরেল ঢাকার একটা অংশকে স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু স্টেশন পর্যন্ত যাওয়ার বাস নেই। বাস ভাড়া বাড়ে, সেবা বাড়ে না। ঢাকার বাইরে মহাসড়কে রাতের বাস চলে যেন কারও দায় নেই। আমাদের প্রস্তাব: প্রতিটি বাসের ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স কিউআর কোডে যাত্রী নিজেই দেখতে পারুক, দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হোক, আর গণপরিবহনে নারী ও শিশুর জন্য নির্ধারিত আসন কাগজে নয়, বাস্তবে থাকুক।
শীত এলেই ঢাকার আকাশ ধূসর হয়ে যায়। শিশুদের কাশি, বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, হাসপাতালে ভিড়। ইটভাটা, নির্মাণের ধুলা, পুরোনো গাড়ির ধোঁয়া—সব জানা, তবু বছর বছর একই অবস্থা। নদীগুলোর অবস্থাও একই। যে নদী শহরকে বাঁচিয়ে রাখার কথা, সেটি এখন কারখানার বর্জ্যের নালা। আর বর্ষায় বন্যা, শীতে খরা—জলবায়ু বদলের ধাক্কা সবার আগে খায় উপকূলের মানুষ। আমরা চাই বায়ুমানের তথ্য প্রতিদিন প্রকাশ হোক, দূষণকারী কারখানার তালিকা জনসমক্ষে আসুক, আর শহরে গাছ কাটার আগে জনমত নেওয়া বাধ্যতামূলক হোক। পরিবেশ কোনো বিলাসিতা নয়; এটা আমাদের বেঁচে থাকার শর্ত।
নিরাপত্তা মানে শুধু বড় অপরাধের পরিসংখ্যান নয়। নিরাপত্তা মানে একজন নারী রাত দশটায় বাসে চড়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন কি না, একজন দোকানদার চাঁদা না দিয়ে দোকান খুলতে পারছেন কি না, একজন সাধারণ মানুষ থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন কি না। ভিড়ের হাতে বিচার আমাদের ভয় দেখায়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার আদালতে হোক, রাস্তায় নয়। আর পুলিশের ওপর আস্থা ফিরবে তখনই, যখন তারা ক্ষমতাবানের নয়, আইনের পক্ষে দাঁড়াবে। আমরা চাই থানায় অভিযোগ নেওয়া সহজ হোক, মামলার অগ্রগতি অনলাইনে দেখা যাক, আর যে বাহিনী আমাদের রক্ষা করে, তাদের জবাবদিহিও যেন…
জমির খারিজ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিদ্যুতের সংযোগ—সাধারণ নাগরিকের যে কোনো কাজে গেলে প্রথম প্রশ্ন আসে, কত লাগবে? যেখানে সেবা পাওয়া অধিকার, সেখানে সেটা কিনতে হয়। দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি টাকায় নয়। এটা মানুষকে শেখায় যে নিয়ম মানা বোকামি। যে তরুণ সৎভাবে চাকরির পরীক্ষা দেয় আর দেখে অন্য কেউ টাকা দিয়ে ঢুকে গেল, সে দেশের ওপর বিশ্বাস হারায়। আমাদের প্রস্তাব: যে সেবাগুলো অনলাইনে সম্ভব, সেগুলো পুরোপুরি অনলাইনে হোক যাতে মানুষের মুখোমুখি হতে না হয়; প্রতিটি অফিসে সেবার সময়সীমা ও ফি স্পষ্ট লেখা থাকুক; আর যারা ধরা পড়বে, তাদের শাস্তি প্রকাশ্যে হোক।
Page 2 of 3