বিদ্যুৎ হলো অমাবস্যার চাঁদ আর বিল হলো ঈদের চাঁদ
4 বার দেখা হয়েছে
একজন লেখক সরাসরি প্রকাশ করেছেন; প্রকাশের পর পর্যালোচনা হয়।যেভাবে কাজ করে
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আর জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা যেন একটা রহস্যজনক থ্রিলার নাটক, যার প্রতি পর্বে থাকে নতুন কোনো চমক! একদিকে প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ঘোরে না, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেখলে মাথার ভেতরের ফ্যান ঘুরতে শুরু করে। ## বর্তমানে দেশে যে খেলাগুলো চলছে, তার একটা ছোটখাটো তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
আসা-যাওয়ার ডিজিটাল খেলা: বিদ্যুৎ নাকি এখন খুব ‘সামাজিক’ হয়ে গেছে! একটু পরপরই আপনার খোঁজ নিতে চলে যায় (লোডশেডিং), আবার হুট করে এসে চমকে দেয়। বিশেষ করে গ্রামের দিকে বিদ্যুতের আগমন ঘটে অনেকটা ‘অতিথি’র মতো—আসে কম, থাকে আরও কম।
গ্যাসের সিলিন্ডার ও চুলা-সংকট: বাসা-বাড়ির গ্যাসের চুলা এখন অলংকার হিসেবে খুব সুন্দর মানায়! রান্নার টাইমে গ্যাস থাকে না, তাই আম্মুদের ভরসা এখন ইন্ডাকশন চুলা কিংবা চড়া দামের এলপিজি সিলিন্ডার। আবার এলপিজি সিলিন্ডারের দামের মিটার যে কখন কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা আবহাওয়া পূর্বাভাসের চেয়েও অনির্দেশ্য!
বিলের ওপর রোলার কোস্টার: বিদ্যুৎ বা গ্যাসের ব্যবহার বাড়ুক আর কমুক, প্রতি মাসে বিলের কাগজটা হাতে পেলে মনে হয় যেন এলাকার মেয়রের ট্যাক্স পরিশোধ করছি! নিত্যপণ্যের বাজারের মতো বিদ্যুৎ আর জ্বালানির দামও যেন রকেটে চড়ে ওপরের দিকেই যাচ্ছে।
আমদানি নির্ভরতা ও বকেয়া জট: সরকার কয়লা, এলএনজি আর জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে কিনে এনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ডলার-সংকট আর বকেয়া বিলের ঠেলায় সাপ্লাই চেইন সবসময়ই একটু ধুঁকছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে, কিন্তু চালানোর জ্বালানি কিনতে গিয়ে পকেট খালি!
সব মিলিয়ে, আমরা এখন এমন এক যুগে আছি যেখানে চার্জার লাইট, আইপিএস আর হাতপাখা, এই তিন রত্নই মানুষের সবচেয়ে অনুগত বন্ধু। আর সাধারণ জনগণ হিসেবে আমাদের কাজ একটাই, গরমে ঘেমে-নেয়ে চাতক পাখির মতো বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করা, আর প্রতি মাসে বিল দেখে হালকা হেসে বলা, “জীবনটা সত্যিই বৈচিত্র্যময়!”
মন্তব্য